Header Ads

Header ADS

ঢাকা বিভাগের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন: একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন | A Blend of History and Natural Beauty of Dhaka Division: A Serial Report

ঢাকা বিভাগ


ঢাকা বিভাগের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন: একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন | A Blend of History and Natural Beauty of Dhaka Division: A Serial Report.

 

উপস্থাপনা:

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের রাজধানী। এই জেলা কে কেন্দ্র করে মোট ১৩ টি জেলার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই বিভাগের প্রতিটি জেলাতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক দারুণ আকর্ষণ। ঐতিহাসিক মসজিদ, জমিদার বাড়ি থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নদী ও হাওরসবকিছুই এই বিভাগকে করেছে অনন্য। চলুন, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার প্রতিটি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক
 

১। ঢাকা জেলা | Dhaka District | ইতিহাস ও আধুনিকতার নগরী :

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, ইতিহাস ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো মূলত ঐতিহাসিক স্থাপনা কেন্দ্রিক

 

🏯লালবাগ কেল্লা: ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে সামান্য দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারের দিকে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা। এটি গণমানুষের কাছে লালবাগ দুর্গ নামেও পরিচিত। মুঘল আমলে নির্মিত এই দুর্গটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পরী বিবির মাজার, দরবার হল ও হাম্মামখানা এই কেল্লার ভেতরের প্রধান স্থাপনা

 

🏯আহসান মঞ্জিল: ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল। এটি তখনকার আমলে ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে

 

🏯ঢাকেশ্বরী মন্দির: বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী মন্দির। প্রাচীন এই মন্দিরটি ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ

 

🏯তারা মসজিদ: রাজধানী ঢাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের নাম তারা মসজিদ। এটি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত এই মসজিদে মোগল স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব দেখা যায়। এর দেয়ালে থাকা তারার মতো কারুকার্য এটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে

 

🏯ষাট গম্বুজ মসজিদ (মোহাম্মদপুর): এই মসিজিদটি ঢাকার মোহাম্মদপুর এ অবস্থিত। বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের আদলে ঢাকায় নির্মিত এই মসজিদটি একটি দর্শনীয় স্থান

 

🏯জাতীয় সংসদ ভবন: স্থপতি লুই আই কান এর চিন্তাশৈলীর বাস্তব নমুনা ও আধুনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। এই ভবনটিও বর্তমানে পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়

 

🏯বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার: বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে জানতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার একটি চমৎকার জায়গা

 

🏯বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর: দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরটি খুবই ‍গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি হিসেবে সবারই উচিৎ অন্তত একবার হলেও এই জাদুঘরটি দর্শন করা।

 

🏯মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: বাংলাদেশের বিজয়গাঁথা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে জানতে ও অনুভব করতে এই জাদুঘরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

 

২। গাজীপুর জেলা | Gazipur District | শিল্প ও প্রকৃতির সমন্বয় :

 
রাজধানীর অদূরে অবস্থিত গাজীপুর জেলা শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানযেমন:-
 

🏯বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক: প্রাকৃতিক পরিবেশে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। তাই তো এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীদের ভিড় করতে দেখা যায়।

 

🏯ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান: শাল গজারি সমৃদ্ধ এই বনটি পিকনিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য বেশ জনপ্রিয়।

 

🏯নুহাশ পল্লী: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটির নাম নুহাশ পল্লী। এটি সবুজে ঘেরা এক মনোরম উদ্যান।

 

🏯ভাওয়াল রাজবাড়ী: গাজীপুরের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম আরেকটি নিদর্শন হচ্ছে ভাওয়াল রাজবাড়ী। এই জমিদার বাড়িটি বর্তমানে জেলা পরিষদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

🏯জাগ্রত চৌরঙ্গী: মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি গাজীপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

৩। নরসিংদী জেলা | Narsingdi District | প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্যের পীঠস্থান :

 
প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ নরসিংদী জেলাএই জেলাতেও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ দর্শনীয় স্থান। যেমন:-
 

🏯উয়ারী-বটেশ্বর: বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হচ্ছে উয়ারী-বটেশ্বর। এখানে খননকার্যের মাধ্যমে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে।

 

🏯বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্মৃতি জাদুঘর: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে এই জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

🏯ড্রিম হলিডে পার্ক: বিনোদনের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় থিম পার্ক। এখানে প্রতিনিয়ত অসংখ্য পর্যটক দলকে দেখা যায় পিকনিক ও বনভোজন আয়োজন করতে।

 

🏯ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি: পবিত্র কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক (যদিও ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন এর অনুবাদ কাল ১৮৮৬ সাল। কিন্তু তার বহু বছর পূর্বে ১৮০৮ সালে বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের আংশিক অনুবাদ করেন মাওলানা আমীরুদ্দীন বসুনিয়া। এরপর ১৮৩৬ সনে মৌলভী নাঈমুদ্দীন পূর্ণাঙ্গ কুরআন মাজীদের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন। সুত্র: খন্দকার কামরুল হুদা, বাংলা ভাষা ও স্বাধীনতা সংগ্রাম।) হিসেবে পরিচিত ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের এই বাড়িটি এখন একটি স্মৃতি জাদুঘর।

 

৪। মানিকগঞ্জ জেলা | Manikganj District | নদী ও প্রকৃতির লীলাভূমি :

 
পদ্মা, যমুনা ও কালীগঙ্গা বিধৌত মানিকগঞ্জ জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত
 

🏯বালিয়াটি জমিদার বাড়ি: এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও সংরক্ষিত জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই বাড়িটির স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে

 

🏯তেওতা জমিদার বাড়ি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর পৈতৃক নিবাস এই জমিদার বাড়িটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে

 

🏯নবাব বাড়ি: জেলা সদরে অবস্থিত এই প্রাচীন বাড়িটিও মানিকগঞ্জের একটি দর্শনীয় স্থান, যেখানে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা যায়।

 

৫। মুন্সিগঞ্জ জেলা | Munshiganj District | বিক্রমপুরের প্রাচীন কীর্তি :

 
প্রাচীন বিক্রমপুরের অংশ মুন্সিগঞ্জ জেলা ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিপূর্ণএই জেলাতে রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান। যেমন:-
 

🏯ইদ্রাকপুর কেল্লা: মুঘল আমলে নির্মিত এই দুর্গটি জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।  বর্তমানে এটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

 

🏯বাবা আদম মসজিদ: বিক্রমপুরের একটি প্রাচীন মসজিদ এটি, যা তার স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত।

 

🏯অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা: বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান প্রচারক অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান এটি। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের লোকদেরকেও পর্যটক হিসেবে আসতে দেখা যায়।

 

🏯পদ্মা রিসোর্ট: পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই রিসোর্টটি প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান।

 

🏯সোনারং জোড়া মঠ: মুন্সিগঞ্জের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হচ্ছে সোনারং জোড়া মঠ। এটি টঙ্গীবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে সোনারং গ্রামে পাশাপাশি দুটি মঠ নিয়ে গঠিত এটি স্থানীয় গণমানুষের কাছে অষ্টাদশ শতাব্দীর জোড়া মন্দির হিসেবে পরিচিতি বটে।

 

৬। নারায়ণগঞ্জ জেলা | Narayanganj District | প্রাচ্যের ডান্ডি ও মসলিনের শহর :

ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় ও পাটের জন্য বিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলায় রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানযেমন:-
 
🏯পানাম নগর: সোনারগাঁও এ অবস্থিত এই প্রাচীন নগরীটি যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এর দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে পুরনো দালানগুলো পর্যটকদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
 
🏯সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর: বাংলাদেশের লোকশিল্প ও সংস্কৃতিকে জানার জন্য এই জাদুঘরটি একটি আদর্শ জায়গা
 
🏯মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি: নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি তার চমৎকার স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। বর্তমানে এটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
 
🏯জিন্দা পার্ক: গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা এই পার্কটি নগরজীবনের কোলাহল থেকে দূরে এক প্রশান্তির জায়গা। যেখানে গেলে ক্ষণিকের জন্য হলেও মানুষ তাদের মানসিক চাপ ও অশান্তিকে ভুলে যায়।

 

৭। কিশোরগঞ্জ জেলা | Kishorganj District | হাওর-বাঁওড় ও লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধন :


হাওর-বাঁওড় ও লোকসংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য
 

🏯নিকলী হাওর: বর্ষাকালে এই হাওরের দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বৃষ্টি পরবর্তী সময়ে নিরব নিস্তব্ধ ও পরিস্কার আবহাওয়া মানসিক রিফ্রেশমেন্টের উপাদান যোগায়।

 

🏯অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা অল ওয়েদার রোড: হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া এই রাস্তাটি পর্যটকদের কাছে এক নতুন আকর্ষণ। বিশেষ করে যখন হাওরগুলি পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, তখন মনে হয় সাগরের বিশাল জলরাশির মাঝে বয়ে চলেছে এই রাস্তা, যা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

🏯শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান: উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এই ঈদগাহ ময়দান কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এটি ধর্মীয়ভাবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

 

🏯জঙ্গলবাড়ি দুর্গ: বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম একজন ভূঁইয়া ছিল ঈশা খাঁ। আর ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল এই দুর্গ।

 

🏯পাগলা মসজিদ: নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদটি স্থাপত্যশৈলী ও অলৌকিকতার জন্য বিখ্যাত। আমরা এখনো পত্রিকার পাতায় দেখতে পাই এই মসজিদের দান বাক্সে মানুষের দান করা কোটি কোটি টাকা।

 

৮। টাঙ্গাইল জেলা | Tangail District | চমচম, তাঁত ও জমিদার বাড়ির ঐশ্বর্য :

টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম ও তাঁতের শাড়ির পাশাপাশি এখানকার জমিদার বাড়িগুলোও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়

 

🏯মহেরা জমিদার বাড়ি: বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও সংরক্ষিত এই জমিদার বাড়িটি এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

🏯করটিয়া জমিদার বাড়ি: আতিয়া পরগণার জমিদারদের এই বাড়িটি 'সাদত মঞ্জিল' নামেও পরিচিত। বর্তমানে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

🏯২০১ গম্বুজ মসজিদ: গোপালপুর উপজেলায় নির্মিত এই মসজিদটি তার গম্বুজের সংখ্যার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এতো সংখ্যক গম্বুজের সমন্বয়ে নির্মিত মসজিদ বাংলাদেশে এটিই প্রথম।

 

🏯মধুপুর জাতীয় উদ্যান: টাঙ্গাইলের মধুপুরে অবস্থিত শালবনের এই উদ্যানটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। তাই প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে প্রতিনিয়ত দর্শনে আসেন।

 

🏯আতিয়া জামে মসজিদ: মুঘল আমলে নির্মিত এই মসজিদটি টাঙ্গাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা এখনো মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

 

৯। ফরিদপুর জেলা | Faridpur District | সাধক ও সুফিদের পূণ্যভূমি :


ফরিদপুর জেলা সাধক ও সুফিদের পূণ্যভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো মূলত ধর্মীয় স্থাপনা কেন্দ্রিক
 

🏯হযরত শাহ ফরিদ মসজিদ: ফরিদপুর শহরের এই মসজিদটি জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় স্থানপ্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে বেড়াতে আসেন ও মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

 

🏯জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম: শ্রীঅঙ্গন নামে পরিচিত এই আশ্রমটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি পবিত্র স্থান

 

🏯পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি ও সমাধিস্থল এখানে অবস্থিত

 

১০। মাদারীপুর জেলা | Madaripur District | সুফি সাধক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :


সুফি সাধক শাহ মাদারের নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয়েছে ‘মাদারীপুর’এই জেলাতেও রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। যেমন:-
 

🏯শাহ মাদার (রঃ) দরগাহ শরীফ: মাদারীপুরের প্রধান ধর্মীয় স্থান এটি। দরগাহ প্রেমীরা এখানে আসেন তাদের সাধনার সিধ্যি লাভ করতে।

 

🏯শকুনী দিঘি: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই দিঘিটি একটি মনোরম বিনোদন কেন্দ্র। প্রত্যহ বিকেলে এই দিঘীর পাড়ে অসংখ্য মানুষের ভির জমে।

 

🏯আউলিয়াপুর নীলকুঠি: বৃটিশ আমলে নির্মিত এই নীলকুঠিটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। এটি বৃটিশ শাসনামলে নীল চাষীদের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।

 

🏯সেনাপতির দিঘি: বিশাল আয়তনের এই দিঘিটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। প্রকৃতি প্রেমীরা প্রতিনিয়ত এখানে আসেন তাদের মানসিক রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য।

 

১১। শরীয়তপুর জেলা | Shariatpur District | নদীবিধৌত সমতল ভূমি :

পদ্মা, মেঘনা ও কীর্তিনাশা নদী বিধৌত শরীয়তপুর জেলায় রয়েছে কিছু দর্শনীয় স্থান

 

🏯ধানুকার মনসা বাড়ি: প্রায় ছয়শত বছরের পুরনো এই বাড়িতে সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন দেখা যায়।

 

🏯ফতেহজংপুর দুর্গ: মুঘল আমলে নির্মিত এই দুর্গটি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

 

🏯বুড়ির হাট ঐতিহ্যবাহী মসজিদ: শরীয়তপুরের একটি প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ এটি। ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রেমীরা প্রতিনিয়ত এসব নিদর্শন দেখতে আসেন।

 

🏯মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম: বিনোদনের জন্য এটি একটি আধুনিক পার্ক। প্রত্যহ বিকেলে এখানে অসংখ্য মানুষের গ্যাদারিং হয়।

 

১২। রাজবাড়ী জেলা | Rajbari District | পদ্মা পাড়ের জনপদ :


পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রাজবাড়ী জেলায় রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। নিম্নে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো।
 

🏯মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল মীর মশাররফ হোসেনের জন্মভিটায় এই স্মৃতি কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে।

 

🏯কল্যাণদিঘি: বিশাল আয়তনের এই দিঘিটি খানজাহান আলীর আমলের বলে মনে করা হয়।

 

🏯গোয়ালন্দ ঘাট: একসময় বাংলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল এই ঘাট। পদ্মা ও যমুনার সঙ্গমস্থল এখানে এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।

 

🏯জোড় বাংলা মন্দির: রাজবাড়ির নলিয়া গ্রামে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি মন্দির নিয়ে গঠিত এই স্থাপনাটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

 

১৩। গোপালগঞ্জ জেলা | Gopalganj District | বঙ্গবন্ধুর পূণ্যভূমি :


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলা বিশেষভাবে পরিচিত
 

🏯বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত এই সমাধি কমপ্লেক্সটি বাংলাদেশের গণমানুষের কাছে এক অনন্য স্থান। এখানেও বঙ্গবন্ধু প্রেমীরা বেড়াতে আসেন তাঁর সমাধিস্থান দর্শন করার জন্য।

 

🏯উলপুর জমিদার বাড়ি: প্রাচীন বাংলার জমিদারদের শৌর্য-বীর্যের সাক্ষী এই উলপুর জমিদার বাড়িটি এখন অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান।

 

🏯ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি: মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি পবিত্র তীর্থস্থান এটি। তাদের কীর্তিকলাপ দর্শন করার জন্য এখানে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের ভিড় করতে দেখা যায়।

 

🏯বিল রুট ক্যানেল: গোপালগঞ্জ জেলার অন্যতম একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এই খালটির নাম বিল রুট ক্যানেল। মাদারীপুর-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই খালটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত।

 

শেষ কথা:

ঢাকা বিভাগের প্রতিটি জেলাই তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই প্রতিবেদনটি ঢাকা বিভাগের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র। প্রতিটি স্থানের সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে সরেজমিনে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই
 

পোস্ট কি-ওয়ার্ড (Post Keywords):

ঢাকা বিভাগের দর্শনীয় স্থান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও জাদুঘর | গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ও ভাওয়াল উদ্যান | সোনারগাঁও পানাম নগর ও লোকশিল্প জাদুঘর | কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর ও অল ওয়েদার রোড | টাঙ্গাইলের ২০১ গম্বুজ মসজিদ ও মহেরা জমিদার বাড়ি  | রসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান | টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স | মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি | মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা ও পদ্মা রিসোর্ট 

 

প্রশ্নোত্তর (FAQ):

১. প্রশ্ন: ঢাকা জেলার প্রধান দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম কী?

উত্তর: ঢাকা জেলার প্রধান দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো মুঘল আমলে নির্মিত লালবাগ কেল্লা এবং বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত নবাবদের প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল

 

২. প্রশ্ন: আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত?

উত্তর: প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। এখানে খননকার্যের মাধ্যমে প্রাচীন দুর্গ-নগরীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে

 

৩. প্রশ্ন: কিশোরগঞ্জ জেলার পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণগুলো কী কী?

উত্তর: কিশোরগঞ্জের প্রধান আকর্ষণ হলো দিগন্তবিস্তৃত নিকলী হাওর, দৃষ্টিনন্দন অষ্টগ্রাম-মিঠামইন অল ওয়েদার রোড, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং পাগলা মসজিদ

 

৪. প্রশ্ন: টাঙ্গাইল জেলার কোন মসজিদটি গম্বুজের সংখ্যার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?

উত্তর: টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলায় অবস্থিত ২০১ গম্বুজ মসজিদটি তার গম্বুজের সংখ্যার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি এই বৈশিষ্ট্যের প্রথম মসজিদ বাংলাদেশে

 

৫. প্রশ্ন: পানাম নগর এবং মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি কোন জেলায় অবস্থিত?

উত্তর: পানাম নগর এবং মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি উভয়ই নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। পানাম নগর সোনারগাঁওয়ে এবং মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত

 

৬. প্রশ্ন: গোপালগঞ্জ জেলা কেন পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: গোপালগঞ্জ জেলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি। এখানকার টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স দেখার জন্য সারা দেশ থেকে পর্যটকরা আসেন

 

৭. প্রশ্ন: মানিকগঞ্জ জেলার কোন জমিদার বাড়িটি স্থাপত্যশৈলীর জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে?

উত্তর: মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি তার বিশাল আকৃতি ও চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর জন্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে

 

৮. প্রশ্ন: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং নুহাশ পল্লী কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত নুহাশ পল্লী গাজীপুর জেলায় অবস্থিত


আরো পড়ুন:

১।
২।
৩।


No comments

Theme images by Lingbeek. Powered by Blogger.