প্রশংসা করি মোরা আল্লাহ তায়ালার || Proshonsa Kori Mora Allah Ta'lar || হামদ-ই-ইলাহী || Hamd-e-Elahi
![]() |
| স্রষ্টার মহিমা ও মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রতিফলন সম্বলিত প্রশংসা করি মোরা সঙ্গীতের চিত্র। |
প্রশংসা করি মোরা আল্লাহ তায়ালার
গীতিকার: মাওলানা ইবরাহীম আলী তশনা
[১]
প্রশংসা করি মোরা আল্লাহ তায়ালার,
বিশ্ব জাহান পয়দা হলো, হুকুমে
যাহার........
প্রশংসা করি মোরা আল্লাহ তায়ালার।
[২]
ভূমণ্ডল আর নভোমন্ডল করিয়া সৃজন........
মানুষকে সবার উপরে দিলেন পজিশন।
সু-খাদ্য দিলেন কতো করিতে আহার........ঐ
[৩]
জ্ঞান-বিজ্ঞান আর শিল্পকলা, আবিষ্কার আর
যতো........
আছে ইহার মধ্যে প্রভুর দান যে অবিরত।
মাটির মানুষ চন্দ্রে গেলো, কৃপায়ে
তাহার........ঐ
[৪]
বন্যভূমি শহর করে, চালায় কত
গাড়ি........
গর্তগুহা ছেড়ে গড়লো আকাশ ছোঁয়া বাড়ি।
আর যে কত পেয়েছে দান, নাহিকো শেষ
যার........ঐ
[৫]
সাগর পাহাড় খুঁড়ে মানুষ, আনলো কত
মনি........
মাটির গর্ত চিরে বাহির করল কত খনি।
দূর কে আজি করছে নিকট, কুদরতে
তাহার........ঐ
[৬]
মিষ্ট-তিক্ত ঝাল মসল্যা, দুধ মধু আর
চিনি........
মাছ-গোস্ত ফলমূল যে কতই দিলেন তিনি।
উদ্দেশ্য শুধু করবে তারা, বন্দেগী
তাঁহার........ঐ
[ সংগৃহীত ]
সঙ্গীত বিশ্লেষণ
মাওলানা ইবরাহীম আলী তশনা কর্তৃক রচিত ‘প্রশংসা
করি মোরা' সঙ্গীতটি
মহান আল্লাহর অসীম কুদরত এবং মানুষের প্রতি তাঁর অফুরন্ত নেয়ামতের এক অনন্য দলিল।
এই হামদ-এ-বারী তায়ালাটিতে আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানের সাফল্যকেও
স্রষ্টার দান হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
প্রশংসা করি মোরা: স্রষ্টার মহিমা ও সৃষ্টির রহস্য নিয়ে এক কালজয়ী হামদ শিরোনাম:
১. উপস্থাপনা:
মহাবিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণায় লুকিয়ে আছে
মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব। মাওলানা ইবরাহীম আলী তশনা তাঁর এই কালজয়ী লেখনীতে কেবল
স্রষ্টার প্রশংসাই করেননি, বরং পৃথিবীর বিবর্তন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আধুনিক
বিজ্ঞানের জয়যাত্রাকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে স্রষ্টার দয়ার সাথে সম্পর্কিত করেছেন।
এটি কেবল একটি সঙ্গীত নয় বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক আধ্যাত্মিক মাধ্যম।২. সঙ্গীত বিশ্লেষণ:
(১)
প্রথম স্তবক: সৃষ্টির সূচনা ও আজ্ঞা
"প্রশংসা করি মোরা আল্লাহ তায়ালার / বিশ্ব জাহান পয়দা হলো, হুকুমে যাহার........"
এই চরণে পবিত্র কুরআনের 'কুন ফায়াকুন' (হও, অমনি হয়ে যায়) দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে। মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে কোনো জাগতিক উপকরণের প্রয়োজন হয়নি, বরং কেবল মহান আল্লাহর হুকুমেই এই বিশাল জগত অস্তিত্ব লাভ করেছে।(২)
দ্বিতীয় স্তবক: মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও নেয়ামত
"ভূমণ্ডল আর নভোমন্ডল করিয়া সৃজন........ / মানুষকে সবার উপরে দিলেন পজিশন।"
এখানে মানুষকে 'আশরাফুল মাখলুকাত' বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের কল্যাণ। জীবন ধারণের জন্য মহান আল্লাহ আমাদের যে অসংখ্য সু-খাদ্য দিয়েছেন, তা তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ।(৩)
তৃতীয় স্তবক: জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন
"জ্ঞান-বিজ্ঞান আর শিল্পকলা, আবিষ্কার আর যতো........ / মাটির মানুষ চন্দ্রে গেলো, কৃপায়ে তাহার........"
এটি সঙ্গীতটির একটি অত্যন্ত আধুনিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক। মানুষ যে আজ বিজ্ঞানে উন্নতি করছে, মহাকাশ জয় করছে বা চন্দ্রে পদার্পণ করেছে—গীতিকার একে মানুষের একক কৃতিত্ব না বলে স্রষ্টার 'দান' ও 'কৃপা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জ্ঞানই হলো স্রষ্টার দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।(৪)
চতুর্থ স্তবক: নগরায়ন ও সভ্যতার বিকাশ
"বন্যভূমি
শহর করে, চালায়
কত গাড়ি........ / গর্তগুহা ছেড়ে গড়লো আকাশ ছোঁয়া বাড়ি।"
(৫)
পঞ্চম স্তবক: প্রাকৃতিক সম্পদ ও কুদরত
"সাগর পাহাড় খুঁড়ে মানুষ, আনলো কত মনি........ / দূর কে আজি করছে নিকট, কুদরতে তাহার........"
সাগর ও পাহাড়ের গভীর থেকে রত্ন বা খনিজ সম্পদ আহরণ করার ক্ষমতা মানুষকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে বিশ্ব যে হাতের মুঠোয় এসেছে, তাকে আল্লাহর 'কুদরত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।(৬)
ষষ্ঠ স্তবক: বৈচিত্র্যময় আহার ও বন্দেগী
"মিষ্ট-তিক্ত ঝাল মসল্যা, দুধ মধু আর চিনি........ / উদ্দেশ্য শুধু করবে তারা, বন্দেগী তাঁহার........"
খাবারের বিচিত্র স্বাদ ও উপকরণ স্রষ্টার পরম মমতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তবে এই সব নেয়ামত দেওয়ার একটিই মূল উদ্দেশ্য—মানুষ যেন স্রষ্টাকে চেনে এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর 'বন্দেগী' বা ইবাদত করে।৩. সারমর্ম:
সঙ্গীতটির মূল কথা হলো কৃতজ্ঞতা। আমাদের আধুনিক জীবন, বৈজ্ঞানিক
আবিষ্কার, প্রাকৃতিক
সম্পদ এবং সুস্বাদু খাবার—সবই
মহান আল্লাহর দান। মানুষ সভ্যতার শিখরে পৌঁছালেও তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্রষ্টার অনুগ্রহের
ওপর নির্ভরশীল। এই নেয়ামতগুলো ভোগ করার পাশাপাশি মানুষের প্রধান দায়িত্ব হলো তাঁর দাসত্ব
স্বীকার করা।৪. উপসংহার:
মাওলানা ইবরাহীম আলী তশনা তাঁর এই লেখনীর মাধ্যমে আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি শিখিয়েছেন যে, বিজ্ঞান এবং ধর্ম সাংঘর্ষিক নয়, বরং বিজ্ঞানের প্রতিটি আবিষ্কারই আল্লাহর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। এই হামদটি পাঠ করলে বান্দার হৃদয়ে স্রষ্টার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জাগ্রত হয়।৫. প্রশ্নোত্তর (Q&A):
(২) প্রশ্ন: গানে 'মাটির
মানুষ চন্দ্রে গেলো'
কথাটির মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এর মাধ্যমে
বৈজ্ঞানিক সাফল্যের কথা বলা হয়েছে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ
মহাকাশ বা চন্দ্র জয় করেছে স্রষ্টার দেওয়া মেধা ও কৃপার কারণেই।
(৩) প্রশ্ন: মানুষের 'পজিশন' বা অবস্থান
সম্পর্কে কবি কী বলেছেন?
উত্তর: কবি বলেছেন
যে, নভোমণ্ডল
ও ভূমণ্ডলের যাবতীয় সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহ মানুষকে সবচেয়ে উপরে অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ
মর্যাদা দান করেছেন।
(৪) প্রশ্ন: চতুর্থ স্তবকে সভ্যতার
পরিবর্তনের কী চিত্র ফুটে উঠেছে?
উত্তর: বন্যভূমিকে
শহরে রূপান্তর, যানবাহনের
ব্যবহার এবং গুহা ছেড়ে আধুনিক বহুতল ভবনে বসবাস করার মাধ্যমে সভ্যতার আমূল
পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
(৫) প্রশ্ন: প্রাকৃতিক সম্পদকে গানে
কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে?
উত্তর: সাগর ও
মাটির গর্ত থেকে মণি-মুক্তা ও খনিজ সম্পদ আহরণ করাকেও স্রষ্টার কুদরত হিসেবে
মূল্যায়ন করা হয়েছে।
(৬) প্রশ্ন: খাবারের বৈচিত্র্যের উদ্দেশ্য
কী বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: বিচিত্র
স্বাদ ও রঙের খাবার দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন এই নেয়ামতগুলো ভোগ করে স্রষ্টার
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁর বন্দেগী করে।
(৭) প্রশ্ন: মাওলানা ইবরাহীম আলী তশনা এই
গানের মাধ্যমে কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
উত্তর: তিনি
বার্তা দিতে চেয়েছেন যে,
সৃষ্টির প্রতিটি নেয়ামত এবং মানুষের প্রতিটি সাফল্যই স্রষ্টার দান, তাই
প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের তাঁর প্রশংসা ও ইবাদত করা উচিত।
(৮) প্রশ্ন: এই হামদটি কেন অনন্য?
উত্তর: কারণ এটি
কেবল প্রাচীন ধারার প্রশংসা নয়, বরং এতে নগরায়ন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সাফল্যকেও
স্রষ্টার মহিমার সাথে চমৎকারভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন:
১।
২্।
৩।


No comments