আহলান সাহলান শাহরু রামাদ্বান | Ahlan Sahlan Shahru Ramadan | নাশিদ-ই-রামাদ্বান | Nashid-e-Ramadan
আহলান সাহলান শাহরু রামাদ্বান
(সংগৃহীত)
(১)
আহলান সাহলান শাহরু রামাদ্বান
ইয়া শাহরু রামাদান
বিশ্ববাসীর জন্য এ মাস, আল্লাহ পাকের দান
(২)
এই মাসে যে রাখবে রোজা
নেইকো তার কোন ভয়
আল্লাহ তায়ালা নিজে দিবেন,
এই রোজার বিনিময়
এই মাসে যে রাখবে রোজা
নেইকো তার কোন ভয়
আল্লাহ তায়ালা নিজে দিবেন,
এই রোজার বিনিময়
আল্লাহর আদেশ মানেন যে জন…(২ বার)
সেই…তো মুসলমান…..(ঐ)
(৩)
সবকিছুতে বরকত আসে,
রহম ফিরে আসে
হাজার মাসের সমান যে রাত
আছে তা এই মাসে।
সবকিছুতে বরকত আসে,
রহম ফিরে আসে
হাজার মাসের সমান যে রাত
আছে তা এই মাসে।
এ মাস বড় খুশি আনে, মুসলমানের প্রাণে
সন্ধে হলে মন ভরে যায়, ইফতারীর সুঘ্রাণে
এ মাস বড় খুশি আনে, মুসলমানের প্রাণে
সন্ধে হলে মন ভরে যায়, ইফতারীর সুঘ্রাণে
প্রাণ ভরে দান করে তারা…(২ বার)
পায় যারা এই রমজান…..(ঐ)
সঙ্গীত বিশ্লেষণ
আহলান সাহলান শাহরু রামাদান: রহমত ও বরকতের মাস নিয়ে একটি আত্মিক বিশ্লেষণ:১। উপস্থাপনা:
রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সঙ্গীতটি শুরুই হয়েছে 'আহলান সাহলান' বা সুস্বাগতম জানানোর মাধ্যমে। বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মাসটি এক অমূল্য উপহার। এই সঙ্গীতের প্রতিটি চরণে রমজানের গুরুত্ব, রোজাদারের পুরস্কার এবং এই মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে ফুটে উঠেছে।২। সঙ্গীত বিশ্লেষণ:
(১) প্রথম স্তবকের বিশ্লেষণ:"আহলান সাহলান শাহরু রামাদান / ইয়া শাহরু রামাদান /
বিশ্ববাসীর জন্য এ মাস, আল্লাহ পাকের দান"
এখানে রমজান মাসকে প্রাণঢালা অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। 'শাহরু রামাদান' মানে রমজান মাস। কবি এখানে স্পষ্ট
করেছেন যে, এই মাসটি কেবল একটি গোষ্ঠী বা জাতির জন্য নয়,
বরং এটি সমগ্র বিশ্ববাসীর কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ
নেয়ামত ও দান।(২) দ্বিতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ:
"এই মাসে যে রাখবে রোজা নেইকো তার কোন ভয় / আল্লাহ তায়ালা
নিজে দিবেন, এই রোজার বিনিময়..."
এই স্তবকটি একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসির প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে আল্লাহ বলেছেন—
"রোজা কেবল আমারই জন্য, আর আমি নিজেই এর প্রতিদান
দেব।" রোজাদারের পরকালীন জীবনে কোনো ভয় নেই। এখানে প্রকৃত মুসলমানের সংজ্ঞা
হিসেবে আল্লাহর আদেশ মানার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা রোজার
মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয়।(৩) তৃতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ:
"সবকিছুতে বরকত আসে, রহম ফিরে আসে /
হাজার মাসের সমান যে রাত আছে তা এই মাসে..."
তৃতীয় স্তবকে রমজানের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বরকতের কথা বলা হয়েছে।
এখানে পবিত্র 'লাইলাতুল কদর' বা কদরের
রাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
পাশাপাশি ইফতারের সময়ের আনন্দ এবং রোজাদারের দানশীলতার গুণটি এখানে চমৎকারভাবে
ফুটে উঠেছে। রমজান যে কেবল ত্যাগের নয়, বরং ইফতারের সুঘ্রাণে
হৃদয়ে আনন্দ পাওয়ারও মাস, তা এখানে ব্যক্ত হয়েছে।৩। সারমর্ম:
এই সঙ্গীতটির মূল প্রতিপাদ্য হলো রমজান মাসের মহিমা কীর্তন করা। রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কদরের রাতের ফজিলত লাভ এবং ইফতার ও সদকার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে এখানে। সঙ্গীতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রমজান হলো আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার শ্রেষ্ঠ সুযোগ।৪। উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, রমজান আমাদের জীবনে এক পরম আশীর্বাদ। এই সঙ্গীতটি আমাদের হৃদয়ে রমজানের প্রতি ভালোবাসা ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। রোজার মাধ্যমে আমরা যেন আমাদের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করতে পারি এবং আল্লাহর দেওয়া এই 'সেরা দান' বা রমজানের পূর্ণ সওয়াব হাসিল করতে পারি, সেই কামনাই এই সঙ্গীতের মূল সুর।৫। পোস্ট কি-ওয়ার্ড (Post Keyword):
৬। প্রশ্নোত্তর পর্ব (FAQ):
২. প্রশ্ন: এই সঙ্গীতে রমজানকে কার 'দান' বলা হয়েছে?
উত্তর: এই
সঙ্গীতে রমজান মাসকে মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে বিশ্ববাসীর জন্য এক বিশেষ 'দান' বা উপহার বলা হয়েছে।
৩. প্রশ্ন: রোজার বিনিময় সম্পর্কে সঙ্গীতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: হাদিসে
কুদসির আলোকে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা নিজেই রোজার বিনিময় বা
প্রতিদান প্রদান করবেন।
৪. প্রশ্ন: হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত কোনটি এবং তা কোন
মাসে?
উত্তর: হাজার
মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত হলো 'লাইলাতুল কদর', যা পবিত্র রমজান মাসে অবস্থিত।
৫. প্রশ্ন: ইফতারের সময় মুমিনের মনের অবস্থা কেমন থাকে?
উত্তর: সঙ্গীতে
বলা হয়েছে, ইফতারের সুঘ্রাণে মুমিনের মন আনন্দে ভরে
যায় এবং ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত খুশির বার্তা নিয়ে আসে।
৬. প্রশ্ন: রমজান মাসে মুসলমানেরা কী ধরণের সামাজিক কাজ করে?
উত্তর: রমজান
মাসে মুসলমানেরা বেশি বেশি দান-সদকা করে এবং একে অপরের সাথে ইফতার শেয়ার করে
সামাজিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
৭. প্রশ্ন: সঙ্গীতে 'প্রকৃত মুসলমান'
হিসেবে কাকে চিহ্নিত করা হয়েছে?
উত্তর: যারা
আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করেন, বিশেষ করে যারা
নিষ্ঠার সাথে রোজা রাখেন, তাদের প্রকৃত মুসলমান হিসেবে
ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৮. প্রশ্ন: এই সঙ্গীতটি কেন জনপ্রিয়?
উত্তর: রমজানের
প্রতি মুমিনের আবেগ, ভালোবাসা এবং ইবাদতের মূল নির্যাসগুলো খুব
সহজভাবে এই সঙ্গীতের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে বলে এটি জনপ্রিয়।
### সঙ্গীতটির সুর প্রাকটিস করতে ভিজিট করুন-
এরকম আরো বিভিন্ন প্রকার সঙ্গীতের লিরিক্স পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ব্লগ। ধন্যবাদ সবাইকে। জাযাকাল্লাহু খাইরান।


No comments