এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর বিস্তর সমালোচনা ও কিছু জিজ্ঞাসা | Manpower Structure and MPO Policy-2026
এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর বিস্তর সমালোচনা ও কিছু জিজ্ঞাসা (যেহেতু নীতিমালার কোন বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিতর্কিত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা/সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত, তাই তাদের প্রতি রইল কিছু জিজ্ঞাসা):
১। বেসরকারি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬ এর ৩, ৪.১১ ও ৪.১২ নং পয়েন্ট
এ মাদ্রাসার পরিচয়ে কামিল/কামিল (মাস্টার্স) লিখা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কামিল (স্নাতকোত্তর)/কামিল (মাস্টার্স) লেখা যথার্থ কি না?
২। অত্র নীতিমালার ৪.৩ নং পয়েন্ট এ উদ্বৃত্তপদ এর আওতায় পূর্বের নীতিমালায় বর্ণিত কিছু প্রয়োজনীয় পদ ইচ্ছাকৃত বাদ দেয়া হয়েছে কি না?
৩। অত্র নীতিমালার ৬ এর ‘ক’ এর অধীন দাখিল মাদ্রাসা/দাখিল ভোকেশনাল মাদ্রাসা, ‘খ’ এর অধীন আলিম মাদ্রাসা/আলিম ভোকেশনাল মাদ্রাসা, ‘গ’ এর অধীন ফাযিল (স্নাতক) (১ম-১৫শ)/ফাযিল (সম্মান) (১ম-১৬শ) এবং ‘ঘ’ এর অধীন কামিল (স্নাতকোত্তর)/কামিল (মাস্টার্স) (১ম-১৭শ) মাদ্রাসারর ক্ষেত্রে সহকারী মৌলভীর পদ সংখ্যা ছিল ৪ টি। এখানে পূর্বে সাবজেক্ট মেনশন করা ছিলনা। কিন্তু বর্তমান নীতিমালায় সেগুলিকে সাব্জেক্ট ওয়ারী আলাদা করা হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে ভাল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
৪। অত্র নীতিমালার ৬ এর ‘খ’ এর অধীন আলিম মাদ্রাসা/আলিম ভোকেশনাল মাদ্রাসার জনবল কাঠামো তৈরী করতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে সহকারী অধ্যাপক পদ যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্রমিক ৩ এ প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ/আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ/দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ/আরবি/আরবি ভাষা ও সাহিত্য/আল ফিকহ্ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ। বাস্তবে আলিম মাদ্রাসায় এরকম নামে কোন সাব্জেক্ট বা বিষয় নেই। অত্র নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘ঘ’ এর ১৬ নং ক্রমিকেও একইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নামগুলো আছে ঐ সব ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসায়, যেখানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা এর অধীন অনার্স চালু আছে। আর আলিম মাদ্রাসায় আছে কোরআন মাজিদ, হাদীস শরীফ, আরবি ১ম পত্র, আরবি ২য় পত্র, আরবি ভাষা ও সাহিত্য (বিজ্ঞান বিভাগ), ফিকহ্ ১ম পত্র, ফিকহ্ ২য় পত্র ইত্যাদি। দাওয়াহ্ নামে কোন বিষয়ই নেই। তাহলে নীতিমালায় পদের বিপরীতে বিষয়ের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যথার্থ হয়েছে কি না? না কি কোন বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্য এভাবে বিষয়ের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
৫। অত্র নীতিমালার ৬ এর ‘খ’ এর অধীন আলিম মাদ্রাসা/আলিম ভোকেশনাল মাদ্রাসার ৩২ নং ক্রমিকে ইবতেদায়ী মৌলভী নামে পদ সংখ্যা কমিয়ে ২টি থেকে ১টি করা হয়েছে। যদিও দাখিল মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী মৌলভীর পদ সংখ্যা ২টিই আছে। আবার ৬ এর ‘ঘ’ এর অধীন কামিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ৪১ নং ক্রমিকে বর্ণিত ইবতেদায়ী মৌলভীর পদ সংখ্যা ২ টি থেকে কমিয়ে একটি করা হয়েছে যদিও ৬ এর ‘গ’ এর অধীন ফাযিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ৩২ নং ক্রমিকে বর্ণিত ইবতেদায়ী মৌলভীর পদ সংখ্যা ২টিই রাখা হয়েছে। কোন মাদ্রাসায় একটি আবার কোন মাদ্রাসায় দুটি এরকম অবান্তর চিন্তা এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ চিন্তা কোন শ্রেণির মানুষের মাথায় আসতে পারে? তাদের চিন্তুা কি এমন যে, দাখিল শাখার কোন শিক্ষককে দিয়ে ইবতেদায়ীতে একজন মৌলভীর কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে? যদি এমনই হয়, তবে এখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দাখিল শাখার কোন শিক্ষককে তার পদমর্যাদা থেকে বিচ্যূত করে বাধ্যতামূলক ইবতেদায়ীতে ক্লাস নেয়ার চিন্তা করা হয়েছে কি?
৬। অত্র নীতিমালার ৬ এর ‘ক’এ অধীন দাখিল মাদ্রাসা ও দাখিল ভোকেশনাল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদ না থাকলেও আলিম মাদ্রাসা/আলিম ভোকেশনাল মাদ্রাসা, ফাযিল (স্নাতক)/ফাযিল (সম্মান), কামিল (স্নাতকোত্তর)/কামিল (মাস্টার্স) মাদ্রাসায় তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদটি দাখিল মাদ্রাসা/দাখিল ভোকেশনাল মাদ্রাসায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ছিল কি না?
৭। অত্র নীতিমালার ৬ এর ‘গ’ এর অধীন ৩ নং ক্রমিকে আলিম মাদ্রাসার মতো ফাযিল মাদ্রাসাতেও একইভাবে পদ বিন্যাস করা হয়েছে। যদিও দেশের কোন ফাযিল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু নেই। এক্ষেত্রে প্রভাষকদের আলিম/ফাযিল স্তরের প্রতিটা বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে নামকরণ করা যেত কি না? যেমন, প্রভাষক (কুরআন মাজিদ), প্রভাষক (হাদীস শরীফ), প্রভাষক (ফিকহ্) প্রভাষক (আরবি) ইত্যাদিসহ আরো অন্যান্য।
৮। কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কামিল হাদিস, তাফসির, ফিকহ্ ও আদব বিভাগে পূর্বে ক্রেডিট (৪০০+৪০০) = ৮০০ ও ভাইভা ২০০ অর্থাৎ মোটে ১০০০ মার্কের কোর্স ছিল যেখানে প্রতি বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৪ জন। এদের মধ্যে ২ জন মুহাদ্দিস/মুফাসসির/ফকিহ্/আদিব আর ২ জন করে প্রভাষক। বর্তমান নতুন সিলেবাসে ক্রেডিট (৮০০+৭০০) = ১৭০০ মার্ক ও আরো ২০০ মার্কের ভাইভা ও টিউটোরিয়াল অর্থাৎ মোট ১৯০০ মার্কের কোর্স, সেখানে শিক্ষক সংখ্যা কমিয়ে ১+১ = ২ জন করা হলো। এটা কেমন বোধ, বিবেক আর চিন্তা শক্তি কাজে লাগিয়ে করেছে? নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদ্রাসা শিক্ষায় ফাযিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) স্তর বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে? যদি কোন বিশেষ একটি মহলকে সুবিধা দেয়ার নিমিত্তে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ফাযিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) বন্ধ করাই উদ্দেশ্য না হয়, তো এভাবে পদ সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে আরো কমানো হলো কেন?
৯। প্রাথমিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হচ্ছে যে, কামিল (স্নাতকোত্তর) প্রতি বিভাগের পদ সংখ্যা ২জন করে কমিয়ে ফাযিল (সম্মান) ও কামিল (মাস্টার্স) এ যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এমনটা হওয়া উচিৎ নয়। বরং কোন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করলে উক্ত বিষয় বা বিভাগ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সংখ্যা যুক্ত করা আবশ্যক। সেখানে অন্য একটি পর্যায়ের পদ সংখ্যা কমানো ফাযিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যায় বন্ধের নামান্তর।
অত্র নীতিমালার আওতায় আলিম, ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার বিভিন্ন পদ সংখ্যা কম বেশি করে ৬ এর ‘গ(i) এর অধীন অনার্স পর্যায়ে বিষয় ভিত্তিক নিবন্ধনবিহীন পার্টটাইম নিয়োগকৃত ১৭৬ জনের নিয়োগ বৈধ ও এমপিওভুক্ত করণের উপযোগী করে নেয়া হয়েছে।
১০। কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ে পদ সংখ্যা কমিয়ে একজন মুহাদ্দিস/মুফাসসির/ফকিহ্/আদিব (৬ষ্ঠ গ্রেড) ও একজন প্রভাষক/(সহকারী অধ্যাপক উল্লেখ নেই) (নবম গ্রেড) রাখার দরুণ কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ের প্রভাষকগণ মুহাদ্দিস/মুফাসসির/ফকিহ্/আদিব হওয়া ব্যতীত সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির পথ বন্ধ করে দেয়া হয় নি তো? যেখানে অন্য সব (আলিম/ফাযিল (স্নাতক ও সম্মান)) প্রভাষক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবে। কামিল (স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রভাষকদের জন্য এই রাস্তা সংকুচিত/বন্ধ করা না হয়ে থাকে, তবে প্রভাষক শব্দের পাশে সহকারী অধ্যাপক কথাটি উল্লেখ করা হয় নি কেন?
সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত প্রভাষকগণ বলতে আলিম, ফাযিল (স্নাতক), ফাযিল (সম্মান), কামিল (স্নাতকোত্তর) ও কামিল (মাস্টার্স) স্তরের সকল প্রভাষকগণকে অন্তর্ভুক্ত করবে? এক্ষেত্রে সকল স্তরের প্রভাষকের মধ্যে ৫০% হারে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবে?
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পূর্বের নীতিমালা অনুযায়ী আলিম ও ফাযিল স্তরের প্রভাষকগণের মাঝে আলাদা রেশিও হতো। আর কামিল স্তরের রেশিও আলাদাভাবে গণ্য করা হতো।
১১। আলিম মাদ্রাসা/আলিম ভোকেশনাল মাদ্রাসার ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদের সংখ্যা প্রতিবিষয়ে ১জন। ফাযিল (স্নাতক)/ফাযিল (সম্মান) মাদ্রাসায় বাংলা ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে প্রতি বিষয়ের জন্য ২ জন (আলিম ও ফাযিল স্তরের জন্য) করে রাখা হলেও কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে প্রতি বিষয়ে পদ সংখ্যা ১টি করে রাখা হয়েছে কেন? ফাযিল মাদ্রাসায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ২ জন্ করে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদ উন্মুক্ত থাকলেও কামিল মাদ্রাসায় একজন করে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক থাকবে কেন? এখানে কি কোন বিশেষ মহল স্বার্থ সিদ্ধির ব্যবস্থা করে নি তো?
১২। এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত-২০২১) এর ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের পদ সংখ্যা ৩টি হলেও বর্তমান প্রকাশিত নতুন নীতিমালায় ফাযিল (স্নাতক ও সম্মান) এবং কামিল (স্নাতকোত্তর ও মাস্টার্স) মাদ্রাসার জন্য উক্ত পদ সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ১ টি করা হয়েছে। পন্ডিতগণ ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার দাখিল স্তর, আলিম স্তর, ফাযিল (স্নাতক) স্তর, ফাযিল (সম্মান) স্তর, কামিল (স্নাতকোত্তর) স্তর ও কামিল (মাস্টার্স) স্তর এতোগুলো পর্যায়ের সকল কাজ মাত্র একজন কম্পিউটার অপারেটর দিয়ে করাতে চান কেন? অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের পদটি এমনিতেই ১৬তম গ্রেডে ৯৩০০ টাকা বেসিকের চাকরি আবার ছয়টি ধাপের সকল অফিসিয়াল কাজ, রাত-দিন কাজ করেও তিনি একাকী কাজ শেষ করতে পারবেন না। যিনি এই পদে যোগদান করবেন তিনি কিছুদিন পর হয় তো ডায়ালগ দিবেন, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। হয় তো তিনি চাকরি ছেড়ে পালিয়েও যেতে পারেন। এতোগুলা ধাপের জন্য কম্পক্ষে ৪ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের প্রয়োজন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ধরণ ভেদে ২/৩/৪ জন অপশন রাখা যেতে পারে কি না?
১৩। অত্র নীতিমালার ১১.৩ বলা হয়েছে, “দাখিল স্তরে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় বিএড/সমমান ডিগ্রি বিহীন কোন সহকারী শিক্ষক/সহকারী মৌলভী এমপিওভুক্তির ৫ (পাঁচ) বছরের মধ্যে ডিগ্রি (বিএড/ডিপ-ইন-এড/বিএমএড/সমমান যাদের ক্ষেত্রে এ সকল ডিগ্রি প্রযোজ্য) অর্জন করলে তিনি এ ডিগ্রির জন্র বেতন স্কেলের গ্রেড-১০ এ এমপিও প্রাপ্য হবেন। তবে ০৫ (পাঁচ) বছরের মধ্যে ডিগ্রি অর্জন করতে না পারলে তিনি আর বেতন স্কেলের গ্রেড-১০ এর এমপিও প্রাপ্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।” বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স করে সহকারী শিক্ষক পদে বিএড/ডিপ-ইন-এড/বিএমএড/সমমান ছাড়া গ্রেড-১০ না পাওয়া গেলেও সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে শুরুতেই গ্রেড-১০ ঠিকই পাওয়া যায়। তবে তাদেরও চাকুরিতে যোগদান হতে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে বিএড/ডিপ-ইন-এড/বিএমএড/সমমান সম্পন্ন করতে হয়। এখানেও বৈষম্য থেকেই গেল।
এখানে একটি কথা বলতেই হয়, যে অনার্স দিয়ে বিসিএস দিয়ে শিক্ষা ক্যাডার সহ বিভিন্ন ক্যাডার হওয়া যায়, তাদের ক্যাডার পদে নির্বাচিত হওয়ার পর ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়, আবার তারা সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চাকরি করে ৯ম গ্রেডে একটি অগ্রীম ইনক্রিমেন্টসহ বেতন পায়, সেই অনার্স দিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক হওয়া যায় না। প্রভাষক হতে গেলে মাস্টার্স লাগে। আবার সহকারী শিক্ষক হলে ১০ম গ্রেডে বেতন পাওয়া যায় না। ১১তম গ্রেডে দুই-তিন বছর খাটতে হয়। কি চরম বৈষম্যের বাস্তবতা। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পদে যোগদান করে ১০ম গ্রেডে বেতন দিয়ে ক্যাডারদের মতো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় না? নাকি বাংলার জমিন থেকে কোনদিন বৈষম্য দূর হবে না?
১৪। বর্তমান নীতিমালার
আলোকে ১১.৫ নং পয়েন্টস এর অধীন সকল সহকারী শিক্ষকগণ দুটি করে উচ্চতর স্কেল প্রাপ্য
হবেন। এটি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য ইতিবাচক দিক।
১৫। বর্তমান নীতিমালার আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে এম.ফিল ডিগ্রির জন্য ২ টি এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ৩টি অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট এর সুযোগ রাখা হয়েছে।
১৬। অত্র নীতিমালার পরিশিষ্ট- ‘ঘ’ তে বর্ণিত ১, ২, ১০, ১১ ১৩ ও ১৪ নং ক্রমিকে বর্ণিত মাদ্রাসার প্রশাসনিক পদ অধ্যক্ষ/উপাধ্যক্ষ/সুপারিন্টেডেন্ট/সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের কথা উল্লেখ করা হয় নি। অথচ বিগত শিক্ষক ও প্রভাষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী মৌলভী, প্রভাষক (আরবি) ও প্রভাষক (ফিকহ্) পদে অসংখ্য প্রার্থী চাকুরিতে যোগদান করেছেন। তাহলে কি তারা কোনদিন মাদ্রাসার প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত হতে পারবেন না?
১৭। আলিম/ফাযিল (স্নাতক/সম্মান)/কামিল (স্নাতকোত্তর/মাস্টার্স) মাদ্রাসায় প্রভাষক (আরবি/ফিকহ্) নিয়োগের ক্ষেত্রে আল-ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ (বর্তমান নাম: আল-ফিকহ্ এন্ড ল) বাদ দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড (দাখিল, আলিম) যাদের আছে, তারা কি মাদ্রাসায় প্রভাষক (আরবি ও ফিকহ্) বা সহকারী মৌলভী (ফিকহ্/আকাইদ) পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না?
১৮। অত্র নীতিমালার পরিশিষ্ট ‘ঘ’ এর ৪০ ও ৪১ নং ক্রমিকদ্বয়ে বর্ণিত ইবতেদায়ী মৌলভী ও ইবতেদায়ী শিক্ষক যার ইতোপূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ১৩তম গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। তাহলে একই যোগ্যতা নিয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুনেরা কেন ১৬তম গ্রেড পাবে?
শেষ কথা : উপরিউক্ত অভিযোগ সমূহ কেবল আমার স্বল্পজ্ঞানের আলোকে উদ্ভুত হয়েছে। আশা করি সবাই আমার চেয়ে মেধাবী ও বুদ্ধিমান/বুদ্ধিমতী। আমি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি, তার প্রতিউত্তর বা সমাধান হয় তো আপনাদের কাছে আছে। হয় তো আমার বুঝের ঘাটতি আছে। তাই এই অধম উপরিউক্ত বিষয়গুলি আপনাদের মতো বিজ্ঞজনদের কাছে জানতে চায়। যদি জানা থাকে তো সুন্দর, ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় আমাকে সেই জ্ঞানটুকু বিতরণ করবেন নয়তো সুন্দরভাবে এড়িয়ে যাবেন। শিক্ষিত, মেধাবী, বুদ্ধিমাণ ও অভিজ্ঞ সমাজ থেকে কোন অমার্জিত ভাষা কাম্য নয়। ধন্যবাদ সকলকে। ভাল থাকবেন।
উপরিউক্ত লেখনী পড়ার পর যদি মনে করেন সমাধান প্রয়োজন, তবে দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি বা লেখাটি শেয়ার করুন। ইনশা আল্লাহ সমাধান আসবে। এনটিআরসিএর শিক্ষক পদে সুপারিশের পরিপত্র মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন হলেই শুরু হবে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন এর কার্য্যক্রম। তাই সমাধান এর আগেই প্রয়োজন।
নিচের সংবাদের লিংক দেয়া হলো-
এনটিআরসিএ'র শিক্ষক পদে সুপারিশের পরিপত্র মন্ত্রণালয়ে


No comments