Header Ads

Header ADS

এ বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই || A Billu Cho Machh Marbar Jai || আঞ্চলিক গান || Regional Songs


 

, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই

গীতিকার: মাহফুজুর রহমান আকন্দ (বগুড়া)

 
[১]
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
টেংরা ছাতেন গছি মাগুর যদিল কিছু পাই
টেংরা ছাতেন..
টেংরা ছাতেন গছি মাগুর যদিল কিছু পাইবিল্লু
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
 
[২]
হামি লিমো তৌরা, আর তুই লে একখান পলি
আরে শুটকু মিয়াক ডাক দিয়ে ক ধরবিহিনি খলি
হামি লিমো তৌরা, আর তুই লে একখান পলি
শুটকু মিয়াক ডাক দিয়ে ক ধরবিহিনি খলি
হামি লিমো তৌরা, আর তুই লে একখান পলি
শুটকু মিয়াক ডাক দিয়ে ক ধরবিহিনি খলি
সমান কইর‌্যা ভাগ করমোনি সগলি তো হামরাই
সমান করে..
সমান কইর‌্যা ভাগ করমোনি সগলি তো হামরাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
 
[৩]
ছপ ছপা ছপ মারমো পলি তৌরা ছড়াত কইর‌্যা
আরে হিরিস হিরিস টান পড়িলে ডুব দি লিমু ধইর‌্যা
ছপ ছপা ছপ মারমো পলি তৌরা ছড়াত কইর‌্যা
হিরিস হিরিস টান পড়িলে ডুব দি লিমু ধইর‌্যা
ছপ ছপা ছপ মারমো পলি তৌরা ছড়াত কইর‌্যা
হিরিস হিরিস টান পড়িলে ডুব দি লিমু ধইর‌্যা
চপ চপা চপ ভাইজ্যা খামো যদিল কৈ মাছ পাই
চপ চপা চপ..
চপ চপা চপ ভাইজ্যা খামো যদিল কৈ মাছ পাইবিল্লু
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
 
[৪]
করত্যা লদীত মাছ না হলে মহস্থানোত যামো
আরে, সগলি মিল্যা ফুরতি কইর‌্যা কটকটে খামো
করত্যা লদীত মাছ না হলে মহস্থানোত যামো
সগলি মিল্যা ফুরতি কইর‌্যা কটকটে খামো
করত্যা লদীত মাছ না হলে মহস্থানোত যামো
সগলি মিল্যা ফুরতি কইর‌্যা কটকটে খামো
বাঘো পাড়ার দই খিলামো আওয়ের সময় নাই
বাঘো পাড়ার দই
বাঘো পাড়ার দই খিলামো আওয়ের সময় নাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই
 

সঙ্গীত বিশ্লেষণ

বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই গানটি কেবল একটি বিনোদনমূলক সঙ্গীত নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের গ্রামবাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব এবং প্রাণচাঞ্চল্যের এক জীবন্ত দলিল। প্রখ্যাত গীতিকার মাহফুজুর রহমান আকন্দ তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বগুড়ার স্থানীয় সমাজ ও ভূগোলের এক চমৎকার চিত্র এঁকেছেন।

, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই: বগুড়ার মাটির গন্ধে মাখা এক আঞ্চলিক সুরের ব্যবচ্ছেদ:

আমাদের লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডারে আঞ্চলিক গানগুলো সবসময়ই বিশেষ স্থান দখল করে থাকে। বিশেষ করে বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গানগুলো তার নিজস্ব স্বরভঙ্গি এবং লবজের কারণে অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। "এ, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই" গানটি তেমনই এক কালজয়ী সৃষ্টি, যা আমাদের শৈশবের মাছ ধরার স্মৃতি এবং বন্ধুদের সাথে কাটানো সোনালী মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দেয়।

১। উপস্থাপনা:

গ্রামীণ জীবনে বর্ষাকালে বা নদী-নালায় মাছ ধরার আনন্দ এক অন্যরকম শিহরণ জাগায়। গীতিকার মাহফুজুর রহমান আকন্দ অত্যন্ত নিপুণভাবে বগুড়ার আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে এই গানে বন্ধুত্বের ডাক এবং গ্রামবাংলার বৈচিত্র্যময় মাছের নাম ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গানটি শুনলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে করতোয়া নদী, মহাস্থানগড় আর বগুড়ার বিখ্যাত দইয়ের স্বাদ।

২। সঙ্গীত বিশ্লেষণ:

(১) প্রথম স্তবকের বিশ্লেষণ:

", বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই / টেংরা ছাতেন গছি মাগুর যদিল কিছু পাই..."

গানের শুরুতেই বন্ধু 'বিল্লু'-কে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য এক আবেগপূর্ণ ডাক দেওয়া হয়েছে। এখানে উত্তরবঙ্গের অতি পরিচিত কিছু মাছের নাম যেমনটেংরা, ছাতেন, গছি এবং মাগুরের কথা বলা হয়েছে। এই স্তবকটি গ্রামীণ কিশোর-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি।

(২) দ্বিতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ:

"হামি লিমো তৌরা, আর তুই লে একখান পলি / শুটকু মিয়াক ডাক দিয়ে ক ধরবিহিনি খলি..."

দ্বিতীয় স্তবকে মাছ ধরার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। এখানে স্থানীয় মাছ ধরার সরঞ্জাম যেমন'তৌরা' এবং 'পলি'-র উল্লেখ পাওয়া যায়। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার সৌন্দর্য এখানে ফুটে উঠেছে 'শুটকু মিয়া'-কে ডাকার মাধ্যমে। বিশেষ করে "সমান কইর্যা ভাগ করমোনি সগলি তো হামরাই"এই চরণে গ্রামীণ সহজ-সরল মানুষের ভেদাভেদহীন ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইনসাফ প্রকাশ পেয়েছে।

(৩) তৃতীয় স্তবকের বিশ্লেষণ:

"ছপ ছপা ছপ মারমো পলি তৌরা ছড়াত কইর্যা / হিরিস হিরিস টান পড়িলে ডুব দি লিমু ধইর্যা..."

এই স্তবকে মাছ ধরার রোমাঞ্চকর মুহূর্তের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। 'ছপ ছপা ছপ' বা 'হিরিস হিরিস'এই ধ্বন্যাত্মক শব্দগুলো মাছ ধরার বাস্তব আবহ তৈরি করে। মাছ ধরার পর সেই তাজা 'কৈ মাছ' ভেজে খাওয়ার যে তৃপ্তি, তা গ্রামীণ খাদ্য সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

(৪) চতুর্থ স্তবকের বিশ্লেষণ:

"করত্যা লদীত মাছ না হলে মহস্থানোত যামো / সগলি মিল্যা ফুরতি কইর্যা কটকটে খামো..."

শেষ স্তবকে গীতিকার বগুড়ার ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। 'করত্যা লদী' বা করতোয়া নদী এবং ঐতিহাসিক 'মহাস্থানগড়'-এর কথা এখানে এসেছে। মাছ না পাওয়া গেলে মন খারাপ না করে মহাস্থানের বিখ্যাত 'কটকটে' (মিষ্টিজাতীয় খাবার) খাওয়া এবং ফেরার পথে 'বাঘোপাড়ার দই' খাওয়ার পরিকল্পনা গানটিকে এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক রূপ দান করেছে।

৩। সারমর্ম:

এই গানটির মূল নির্যাস হলো বন্ধুত্ব এবং যূথবদ্ধ জীবনের আনন্দ। বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার মাধুর্যে এটি গ্রামবাংলার সহজ-সরল বিনোদনকে ফুটিয়ে তুলেছে। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ছোট সফরটি শেষ পর্যন্ত একটি সাংস্কৃতিক ভ্রমণে রূপ নেয়, যেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও দর্শনীয় স্থানের প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।

৪। উপসংহার:

পরিশেষে বলা যায়, মাহফুজুর রহমান আকন্দের এই অমর সৃষ্টি বগুড়ার আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এটি কেবল মাছ ধরার গান নয়, বরং এটি আমাদের শিকড়ের টান। যান্ত্রিক জীবনের চাপে আমরা যখন হাপিয়ে উঠি, তখন এই ধরণের মেঠো সুর আমাদের প্রাণকে সজীব করে তোলে।

৫। প্রশ্নোত্তর পর্ব (FAQ):

১. প্রশ্ন: "এ, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই" গানটির গীতিকার কে?
উত্তর: গানটির জনপ্রিয় গীতিকার হলেন বগুড়ার কৃতি সন্তান মাহফুজুর রহমান আকন্দ।

২. প্রশ্ন: গানে 'তৌরা' 'পলি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: তৌরা ও পলি হলো বগুড়া ও উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ দেশীয় সরঞ্জাম বা জাল।

৩. প্রশ্ন: এই গানে কোন নদীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: এই গানে বগুড়ার ঐতিহাসিক 'করতোয়া' (বগুড়ার ভাষায় করত্যা) নদীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. প্রশ্ন: বগুড়ার কোন ঐতিহাসিক স্থানের নাম গানে এসেছে?
উত্তর: এই গানে বগুড়ার বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক স্থান 'মহাস্থানগড়'-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. প্রশ্ন: মহাস্থানগড়ের কোন খাবারের কথা গানে বলা হয়েছে?
উত্তর: মহাস্থানগড়ের বিখ্যাত মিষ্টিজাতীয় খাবার 'কটকটে'-র কথা গানে বলা হয়েছে।

৬. প্রশ্ন: গানে 'বাঘোপাড়ার দই' কেন বিখ্যাত?
উত্তর: বগুড়ার দই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, তার মধ্যে 'বাঘোপাড়া' অঞ্চলের দই ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয়।

৭. প্রশ্ন: গানটি কোন আঞ্চলিক ভাষায় রচিত?
উত্তর: গানটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান জেলা বগুড়ার স্থানীয় বা আঞ্চলিক ভাষায় (বগুড়াই লবজ) রচিত।

৮. প্রশ্ন: এই গানটি আমাদের কীসের শিক্ষা দেয়?
উত্তর: গানটি আমাদের দলবদ্ধভাবে কাজ করার আনন্দ, ছোট ছোট বিষয়ে খুশি থাকা এবং নিজের আঞ্চলিক ঐতিহ্যকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়।

### সঙ্গীতটির সুর প্রাকটিস করুন গীতিকার মাহফুজার রহমান আকন্দ এর নিজের কণ্ঠে ও সমন্বয় টিভির ইসলামি শিল্পীগোষ্টির কণ্ঠে।

এ, বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই-      মাহফুজুর রহমান আকন্দ       শিল্পীগোষ্টির যৌথ কণ্ঠে

এরকম আরো অনেক ইসলামী গানের বাংলা লিরিক্স পেতে ভিজিট ও সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ব্লগ। ধন্যবাদ সবাইকে। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

৬। পোস্ট কি-ওয়ার্ড (Post Keyword):

বগুড়ার আঞ্চলিক গান | Bogra Regional Song | মাহফুজুর রহমান আকন্দের গান | Songs of Mahfuzur Rahman Akond | মাছ ধরার গান লিরিক্স | Fishing Song Lyrics | বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার | Traditional Food of Bogra | করতোয়া নদী ও মহাস্থানগড় | Karatoya River and Mahasthangarh | বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষার গান | Bogra Dialect Music | এ বিল্লু চ মাছ মারব্যার যাই | E Billu Cho Mach Marbar Jai

No comments

Theme images by Lingbeek. Powered by Blogger.